রমাদান

রমযানের আধুনিক মাসায়েল

রমযানের আধুনিক মাসায়েল

ইঞ্জেকশনঃ

ইঞ্জেকশন নিলে রোজা ভাঙবে না, চাই তা গোস্তে নেয়া হোক বা শিরায় নেয়া হোক। যে রাস্তায় ইঞ্জেকশন দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সে রাস্তা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহনযোগ্য রাস্তা নয়। তবে সতর্কতার জন্য রাতের বেলায় ইঞ্জেকশন নেয়া উত্তম। রোজার কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে ইঞ্জেকশন নেওয়া মাকরূহ। তবে বিষয়টি ইজতিহাদি। [জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া]

ইনহেলারঃ

শ্বাস কষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরল জাতীয় একটি ঔষধ স্প্রে করে মুখের ভিতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়, যা দ্বারা যে জায়গায় শ্বাস রুদ্ধ হয় সে জায়গাটি প্রশস্ত হয়ে যায়, যা গলার ভিতর প্রবেশ করে। অতএব, মুখের ভিতর ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যাবে। যদিও ইনহেলার অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হোক না কেন। কারণ অতি প্রয়োজনে কিছু খাওয়ার দ্বারা যে ভাবে রোজা ভেঙ্গে যায়, ঠিক তেমনি অতি প্রয়োজনে ইনহেয়ার স্প্রে করার দ্বারাও রোজা ভেঙ্গে যাবে।

এবং পরবর্তীতে শুধু কাযা আদায় করতে হবে, কাফফারা লাগবে না। হ্যা, মুখে ইনহেলার স্প্রে করার পর না গিলে যদি থুথু দিয়ে তা বাইরে ফেলে দেয়া সম্ভব হয় তাহলে রোজা ভাঙবে না। উল্লেখ্য যে, অধিকাংশ ডাক্তারের মতে ২৪ ঘন্টা মধ্যে দুইবার স্প্রে নিলেই যথেষ্ট। অতএব, সাহরীতে এক ডোজ ইনহেলার নেয়ার পর ইফতার পর্যন্ত সাধারণত আর ইনহেলার না নিলেও হয়। বিধায় এই ভাবে রোজা রাখা সহজ হয়। উপরন্তু, যদি ইনহেলার নিতেই হয়, তাহলে পরবর্তীতে একটি রোজা কাযা করতে হবে।

এনজিওগ্রামঃ

হার্টব্লক হয়ে গেলে উরূর গেরা দিয়ে কেটে বিশেষ রগের ভিতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যেথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয় যন্ত্রটিতে যদি কোন ধরণের ঔষধ লাগানো থাকে তবুও রোজা ভঙ্গ হবে না। [ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান]

এন্ডোস্কপিঃ

চিকন একটি পাইপ যার মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে পাইপটি পকস্থলিতে প্রবেশ করানো হয় এবং বাইরে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। এনলে বা বাল্বে যদি কোন ধরণের ওষুধ লাগানো না থাকে, তাহলে রোজা ভাঙবে না। আর যদি ওষুধ ব্যবহার করা হয়, অথবা পরীক্ষার প্রয়োজনে পাইপের ফিবত দিয়ে পানি বা ওষুধ ছিটানো হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। [জাদীদ ফিকহি মাসায়েল]

লেপারোসকপিঃ

শিক জাতীয় একটি যন্ত্র দ্বারা প্রট ছিদ্র করে পেটের ভিতরের কোন অংশ বা গোশত ইত্যাদি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করে নিয়ে আসার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, যদি ইহাতে ঔষুধ লাগানো থাকে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায়, রোজা ভাঙবে না। সাধারণত ওষুধ লাগানো ব্যবহার করা হয় না, তাই রোজা ভাঙবে না। এবং যেহেতু যতক্ষণ ভিতরে থাকবে গোশত বা তার অংশ বিশেষ হজম হয়ে নাড়ি ভুড়িতে যায়, ততক্ষণ থাকে না, তাই রোজা ভঙ্গ হওয়ার কোন কারণ নাই। [আল মাকালাতুল ফিকহিয়া]

অক্সিজেনঃ

রোজা অবস্থায় ওষুধ ব্যবহৃত অক্সিজেন (সাধারণত ওষুধ থাকে না) ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায় রোজা ভাঙবে না। [জাদীদ ফিকহী মাসায়েল]

মস্তিস্ক অপারেশনঃ

রোজা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করে কোন ঔষুধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক এবং ওষুধ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তরল হোক কিংবা শক্ত হোক রোজা ভাঙবে না। কারণ ওষুধ গলা পর্যন্ত পৌছার সরাসরি কোন রাস্তা নয়। [আল মাকালাতুল ফিকহিয়া]

রক্ত দেয়া বা নেয়াঃ

রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের করলে রোজা ভাঙবে না। রক্ত নিলে যদিও দেহের ভিতর প্রবেশ করে , কিন্ত রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য কোন খালি জায়গায় প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য কোন রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না বিধায়, এতে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে, অধিক রক্ত দেয়া যাতে রোজা রাখতে কষ্ট হয়, এটা মাকরুহ হবে। [আহসানুল ফাতওয়া]

সিস্টোসকপিঃ

পেশাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করে যে পরীক্ষা করা হয় এর দ্বারা রোজা ভাঙবে না, কারণ পেশাবের রাস্তা  রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য কোন রাস্তা নয়। [হেদায়া]

প্রক্টোসকপিঃ

পাইলস, ফিশার, অর্শ হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপি বলে। মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায়, সেজন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিন জাতীয় পিচ্ছিল কোন বস্তু ব্যবহার করা হয়। যদিও নলটি পুরোপুরি ভিতরে প্রবেশ করে না, চিকিৎসকদের মতানুসারে ঐ পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সাথে মিলে থাকে এবং নলের সাথেই বেরিয়ে আসে। ভিতরে থাকে না,  আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। আর শরীর তা চোষে না, কিন্তু ঐ বস্তুটি ভেজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙে যায়। [ফাতওয়া শামী]

বিভিন্ন বই এর পিডিএফ পেতে এই লিংকে প্রবেশ করুন বই কালেকশন

কোরআনের বার্তা

কোরআনের বার্তা । ইসলামিক টিউন প্লাটফরম, আহলুসস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদার ভিত্তিতে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকের মানতবতার কল্যাণে জীবন সমস্যার নানা দিক ও বিষয় নিয়ে তথাবহুল আর্টিকেল পাবলিশ করে থাকে। আপনিও চাইলে আপনার তথ্যবহুল লেখা পাবলিশ করতে পারেন কোরআনের বার্তায়। আপনার লেখা জমা দিতে উপরের মেনুবার থেকে "আমাদের কাছে লিখুন" মেনুতে ক্লিক করুন ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button