বিবিধ

সালাতুল বিতরঃ বিধি ও পদ্ধতি (পর্ব-০২)

বিতর সালাত পড়ার পদ্ধতি:

অন্যান্য সালাতের মত বিতর সালাতও পড়তে হয়। তবে, এর বিশেষ কিছু অতিরিক্ত পদ্ধতি রয়েছে। তিন রাকাত বিতর সালাতের প্রত্যেক রাকাতে সূরা পড়তে হয়। যেমনটা হযরত আলিয়া থেকে বর্ণিত।৩১ এবং অন্যান্য সালাতের মত এখানেও ২য় রাকাতের পর বসতে হয় এবং তাশাহুদ পাঠ করতে হয়।৩২ মুসলিম র. মা আয়েশা থেকে মহানবী সা. এর সালাত পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, كان رسول الله صلي الله يستفتح الصلوة بالتكبير والقراءة ب (الحمد لله رب العبمين) و كان إذا ركع لم يشخص رأسه و لم يصوبه ولكن بين ذلك وكان إذا رفع رأسه من الركوع لم يسجد حتي يستوى قائما وكان إذا رفع رأسه من السجدة لم يسجد حتي يستوي  جالسا وكان يقول في كل ركعتين التحية

রাসূল সা. সালাত শুরু করতেন তাকবির দিয়ে এবং এবং কেরাত শুরু করতেন আল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন দিয়ে। তিনি রুকুতে মাথা উপরেও ওঠাতেন না, অর নিচেও নামাতেন না। বরং, এ দুয়ের মধ্যখানে রাখতেন। আর তিনি রুকু থেকে মাথা উঠালে সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সাজদায় যেতেন না। আর যখন সাজদা থেকে মাথা উঠাতেন তখন সোজা হয়ে না বনে পুণরায় সাজদা করতেন না।আর তিনি বলতেন, প্রত্যেক দু  রাকাতে আত্তাহিয়াতু (তাশাহুদ) পড়তে হয়।৩৩ এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, মা আয়েশা রা. উক্ত হাদিসে সকল সালাতের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, প্রত্যেক দু রাকাতে একবার বৈঠক করবে। যদি বিতর সালাতে প্রথম বৈঠক না থাকতো তাহলে তিনি তা অবশ্য উল্লেখ করতেন।

মা আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সা. এশার সালাত আদায় কাতেন। তারপর ঘরে ফেরার পূর্বে মসজিদে সাত রাকাত সালাত পড়তেন। চার রাকাতের প্রত্যেক দু রাকাতে সালাম ফিরাতেন। আর বিতর তিন রাকাত পড়তেন। তাতে সালামের রাকাত তথা শেষ রাকাতে তাশাহুদ পড়ার ন্যায় প্রথম দু’রাকাতে তাশাহুদ পড়তেন।৩৪

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,  আমি আমার মাকে রাসূর সা. এর নিকট  রাতযাপন করে তার বিতর সালাত প্রত্যক্ষ করার জন্য পাঠালাম। তিনি রাসূল সা. এর নিকট এক রাত থাকলেন। রাসূল স. সে রাতে যতটুকু ইচ্ছা সালাত পড়লেন। এমনকি যখন শেষরাত হলো এবং তিনি বিতর পড়তে ইচ্ছা করলেন, তখন ১ম রাকাতে (সুরা ফাতিহার সাথে) সূরা আলা, ২য় রাকাতে সুরা কাফিরুন পড়লেন। তারপর প্রথম বৈঠক করলেন। অতঃপর সালাম দিয়ে নামাযের মাঝে পার্থক্য না করে (৩য় রাকাতের জন্য) দাঁড়ালেন। এতে সুরা এখলাস পড়লেন। কুনূত আল্লাহ যা চান দুয়া করলেন। এরপর তাকবির দিয়ে রুকুতে গেলেন।৩৫

ইমাম বায়হাকি র. তার সুনানে কুবরা, সুনানে সগীর এবং মা’রেফাতুস সুনান কিতাবে باب من أوتر بثلاث موصولات بتشهدين وتسليم  (অধ্যায়: যে ব্যক্তি দুই তাশাহহুদ এবং এক সালামে একত্রে তিন রাকাত বিতর পড়ে) নামে একটি শিরোনাম উল্লেখ করে তার অধীনে সহীহ সুত্রে যে হাদিসটি এনেছেন তা হলো- قال عبد الله : الوتر ثلاث كوتر النهار المغرب     আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বলেন, বিতর সালাত দিনের বিতর তথা মাগরিবের ন্যায় তিন রাকাত।৩৬

এর দ্বার বুঝা যায়, করাতের দিক ছাড়া (যেমনটা আবুল আলিয়ার বর্ণনায় এসেছে) বাকি সকল দিক থেকে বিতর সালাত মাগরিবের সালাতের ন্যায়।৩৭  এজন্য তাতে ২য় রাকাতে বৈঠক আছে। আর এমনটাই উক্ত হাদিস থেকে বুঝেছেন ফকিহ ও মুহাদ্দিস আলেম ইমাম বায়হাকি রহ.। হাদিসের এরূপ শিরোনাম নির্ধারণ থেকে বিষয়টি বোধগম্য হয়। তাছাড়া এ সালাত মাগরিবের সালাতের ন্যায়। যেভাবে মাগরিবের সালাতে যথারীতি দু’রাকাতের পর বসে তাশাহুদ পড়া হয়, তদ্রূপ বিতর সালাতেও দু’রাকাতের পরও বসে তাশাহুদ পড়তে হবে। হযরত হাসান বসরি রহ. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, كان إبي بن كعب يوتر بثلاث لا يسلم إلا في الثالثة مثل المغرب     উবাই বিন কা’ব রা. রাকাত দ্বারা বিতর পড়তেন এবং ৩য় রাকাত ছাড়া সালাম ফিরাতেন না, মাগরিবের সালাতের ন্যায়।৩৮

এ হাদিসের বিতর সালাতকে একটি সালামের দিক থেকে মাগরিবের সালাতের ন্যয় বলা হয়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায়, মাগরিবের সালাতের ন্যায় বিতরের সালাতেও ২য় রাকাতে বৈঠক আছে। হযরত উকবা বিন মুসলিম র. বলেন,  سألت عبد الله بن عمر رضي الله عنهما من الوتر فقال أتعرف وتر النهار قلت نعم صلاة المغرب قال صدقت أو أحسنت আমি আব্দুল্লাহ বিন উমার রা. কে বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তুমি কি দিনের বিতর চিন? আমি বললাম, হ্যাঁ, মাগরিবের সালাত। তিনি বললেন, ঠিক বলেছ।৩৯ এর দ্বার বুঝা যায়, ইবনে উমারের মতে, বিতর সালাত মাগরিবের মত এবং তা তিন রাকাত। কেননা, তিনি বিতর সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তুমি কি দিনের বিতর চিন? অর্থাৎ, উভয়টি একই রকম।

হযরত সাবেত আল বুনানি রহ. বলেন, صليت مع أنس وبت عنده قال فرأيته يصلي مثنى مثنى حتى إذا كان في أخر صلاته أوتر بثلاث مثل المغرب আমি হযরত আনাস রা. এর সাথে এক ঘরে রাত্রি যাপন করেছি এবং তার সাথে সালাত আদায় করেছি। আমি তাকে দেখেছি তিনি রাতে দুই দুই রাকাত করে সালাত পড়েছেন। এবং সবশেষে মগরিবের সালাতের ন্যায় তিন রাকাত বিতর পড়েছেন।৪০

হযরত যিয়াদ বিন মুসলিম র. বলেন, سألت أبا العالية وخلاسا عن الوتر فقالا أصنع في المغرب আমি আবুল আলিয়া ও খল্লাস রহ. কে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তারা উভয়ে বলল, মাগরিবে যেভাবে করা হয় তুমি সেভাবেই কর। ৪১ অর্থাৎ, মাগরিবের সালাতের মতই  দুই তাশাহহুদ এবং এক সালামে একত্রে ৩ রাকাত সালাত আদায় কর। তবে, মাগরিব ও বিতর সালাতের মধ্যে পার্থক্য হল মাগরিবের প্রথম দু রাকাতে কেরাত পাঠ জরুরি কিন্তু বিতরের সকল রাকাতেই কেরাত পাঠ জরুরি। যেমন শরহে মায়ানিল আছার কিতাবে আছে,  عن أبي خالدة  قال: سألت أبا العالية عن الوتر قال علمنا أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم أو علمونا أن الوتر مثل صلاة المغرب غير أنا نقرأ في الثالثة فهذا وتر اليل وهذا وتر النهار  হযরত আবু খালেদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবুল আলিয়া রহ. কে বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমাদেরকে মুহাম্মদ সা. এর সাহাবায়ে কেরাম এ মর্মে শিক্ষা দিয়েছেন যে, বিতর সালাত মাগরিবের মতই তিন রাকাত। তবে, আমরা এর ৩য় রাকাতেও কেরাত পড়ি। এটা হল রাতের বিতর আর ওটা হল দিনের বিতর।৪২

আর এ তিন রাকাত সালাত এক সালামে আদায় করতে হয়। যেমন, মা আয়েশা রা. থেকে সহিত সুত্রে বর্ণিত আছে, كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر بثلاث لا يسلم إلا في أخرهن و هذا وتر أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه و عنه أخذه أهل المدينة  রাসূল সা. তিন রাকাত বিতর পড়তেন এবং শেষ রাকাতে ছাড়া সালাম ফিরাতেন না। আর এটাই  ছিল উমার রা. এর বিতর। এবং তার থেকেই  মদিনাবাসীরা এ আমল গ্রহণ করেছিল।৪৩ মা আয়েশা রা. থেকে আরো বর্ণিত আছে, كان النبي صلى الله عليه وسلم لا يسلم في الركعتين الأولين من الوتر  নবী করীম সা. বিতর সালাতের দুই রাকাতের মাথায় সালাম ফিরাতেন না।৪৪


তথ্যসুত্র:

৩১. ত্বহাবী , শরহু মায়ানিল আছার, হাদিস নং-১৬৩২
৩২. জামে তিরমিযির ৩৮৫ নং হাদিসে হযরত ফদল বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, الصلاة مثنى مثنى تشهد في كل ركعتين সালাত দুই দুই রাকাত করে পড়তে হয়, এবং প্রত্যেক দুই রাকাতে তাশাহহুদ পড়তে হয়। মাজমাউজ যাওয়ায়েদের ২৮৯ নং হাদিসে তবরানি মুজামুল কাবির কিতাব থেকে হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে যে, في كل ركعتين تشهد و تسليم على المرسلين و على من تبعهم من عباد الله الصالحين প্রত্যেক দুই  রাকাতে তাশাহহুদ পড়তে হয় এবং তাতে নবীগণ ও তাদের অনুসারী আল্লাহ তায়ালার নেককার বান্দাহদের সালাম দিতে হয়। সহিহ ইবনে হিব্বানের ১৯৫১ নং হাদিসে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত আছে , রাসূল সা. বলেন, إذا قعدتم في كل ركعتين فقولوا التحيات لله والصلوات والطيبات الخ  যখন তোমরা প্রত্যেক দু রাকাতে বস তখন তোমরা التحيات لله والصلوات والطيبات الخ

৩৩. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১১৩৮
৩৪. তবরানি, আলমুজামুল আওসাত, হাদিস নং- ৮৯৫৯
৩৫. ইবনে হাজার আসাকালানী, আল ইছাবাহ ফি তাময়িযিছ সাহাবা, খ. ৮ পৃ.২৫৬, হাদিস নং ১২১৫৬ (শামেলা) [আসকালানী এক দয়ীফ বললেও হাফেজ খাওয়ারেজমী এর সনদ কে হাসান বলেছেন। ইবনে আদি রহ. এ হাদিসের অভিযুক্ত রাবি আবান বিন আবি আইয়াশ  এর ব্যাপারে বলেন, তার অধিকাংশ সমস্যা তার বর্ণনাকারীদের কারণে] শায়খ জাফর আহমদ উসমানি রহ. উক্ত রাবির ব্যাপারে সাফাই গেয়েছেন। শোবা তার ব্যাপারে মন্তব্য করলেও পুনরায় তার থেকে কুনূতের হদিস বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আব্দিল বার রহ. স্বীয় ইস্তিয়াব কিতাবে হাদিসটি মুতাবি রেওয়ায়েত বিদ্যমান রয়েছে।
৩৬. বায়হাকি, আস সুনানুল কুবরা, হাদিস নং ৪৫৯০

৩৭. একটি আপত্তি: সহিহ ইবনে হিব্বানের ২৪২৯ নং হাদিসে তোমরা তিন রাকাত বিতর পড়ো না ৫ রাকাত বা ৭ রাকাত বিতর পড়। আর তোমরা মাগরিবের সালাতের সাথে উহাকে সাদৃশ্য দিও না। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল কিয়ামুল লাইল শুধু তিন রাকাত না পড়া। কেননা, বিতর এবং কিয়ামুল লাইল সমার্থক।  এর দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয়  যে, ২য় রাকাতে বৈঠক করা যাবে না এবং মাঝখানে কোন প্রকার বৈঠক করা ছাড়া  তিন রাকাত একত্রে পড়ে মাগরিবের সদৃশ্য থেকে বাচতে হবে। কারন সকল সালাতে ২য় রাকাতে বৈঠক করা সহিহ মুসলিমের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত । আর ৩ রাকাত বিতর পড়াও সহিহ তাদসি দ্বারা প্রামাণিত। তাই উক্ত হাদিসের আসল উদ্দেশ্য হলো কেউ যেন ৩ রাকাত দ্বারা তাহাজ্জুদ না পড়ে। অথবা, এর দ্বারা উদ্দশ্য হলো কেউ যেন শুধু ৩ রাকাত বিতর না পড়ে বরং আগে যেন ২/৪/৬/৮ রাকাত নফল নামায পড়ে নেয়। যেমন, মা আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, لا يوتر بثلاث بتراء صل قبلها ركعتين أو أربعا শুধু ৩ রাকাত বিতর না যেন না পড়ে। তুমি উহার পূর্বে ২/৪ রাকাত (নফল) পড়ে নিও।(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং ৬৮২৮) আর এভাবেই মাগরিবের সাদৃশ্য থেকে বাচা যাবে। যেমন ইমাম ত্বহাবী র. বলেন, ইবনে আব্বাস রা. কেবল তিন রাকাত বিতর পড়া অপছন্দ করতেন। তাঁর মতে, বিতরের পূর্বে ২/৪ রাকাত নফল নামায পড়া উচিত। [শরহে মায়ানিল আছার,(শামেলা) খ ১, পৃ.২৮৯] আর বিভিন্ন বর্ণনায় যে রয়েছে যে, لا يجلس إلا في أخرهن (তিনি বিতর সালাতের শেষে ছাড়া বসতেন না) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল  সালামের জন্য বসতেন না। যেমনটা জানা যায় মা আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত অন্য বর্ণনা দ্বারা। মুসতাদরাকে হাকেমের ১১৪০ নং হাদিসে আছে كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر بثلاث لا يسلم إلا في أخرهن (রাসুল সা. তিন রাকাত বিতর পড়তেন এবং শেষ রাকাতে ছাড়া সালাম ফিরাতেন না। অন্যথায় হাদিসগুলোর সাথে দ্বন্দ্ব অবশ্যম্ভাবী। আর হদিসগুলোকে বিরোধিতার উপর প্রয়োগ করার চেয়ে সমন্বয় সাধনের উপর প্রয়োগ করা উত্তম।

৩৮. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ৪৬৫৯, হাদিসটির রাবিগণ সকলে নির্ভরযোগ্য।
৩৯. ত্বহাবী, শরহে মায়ানিল আছার, হাদিস নং ১৫৪৩, হাদিসটির সনদ সহিহ।
৪০. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ৪৬৩৬, হাদিসটির সনদ সহিহ।
৪১.মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস নং ৬৮৩৯
৪২. ত্বহাবী, শরহে মায়ানিল আছার, হাদিস নং ১৬৩২
৪৩. মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস নং ১১৪০, (জাফর আহমদ  উসমানি রহ. বলেন, ইমাম যাহাবী হাদিসটি র ব্যাপারে চুপ রয়েছেন। সুতরাং হাদিসটি হাসান। ইলাউস সুনানের মতন দ্রষ্টব্য। খ.১ পৃ. ৩৭৫)
৪৪. বায়হাকী, মা’রেফাতুস সুনান, হাদিস নং ১৪৭১; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস নং ১১৩৯, ইমাম হাকেম র. বলেন, হাদিসটি ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম র. এর শর্ত মতে সহিহ। ইমাম যাহাবী র. উক্ত মত সমর্থন করেছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close