Uncategorizedইসলামী অর্থনীতিযাকাত

জনকল্যাণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে যাকাত সংগ্রহ ও তা ব্যয়ের বিধান

শিক্ষা প্রতিষ্টান, মসজিদ ,খানকাহ ,সরাইখানা , এতিমখানা , রাস্তাঘাট ইত্যাদি নির্মাণে ও কুপ ,খাল ,নদী খনন ইত্যাদি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত জরুরী ও গুরুত্বর্পূণ কাজ।এ সকল কাজে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার সওয়াব অনেক। ইসলামী শরীয়তে এগুলোর জন্য বাইতুল মালের ভিন্ন খাত নির্ধারিত রয়েছে।যেখান থেকে একাজের ব্যয় করা হয়। বর্তমানে ইসলামী বাইতুল মাল প্রতিষ্ঠিত নাথাকায় নানান সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে । এ অপারগতার উল্লেখিত কাজগুলো করার জন্য মসলমানদের জন্য যাকাত ব্যতীত ভিন্নভাবে সতন্তর চাঁদা র্ধাযকরা আবশ্যক হয়ে পরেছে। কেননা এসব খাতে যেহেতু মালিকানা সাবস্থ্য হয় না । তাই এতে যাকাত প্রদান করা যাবেনা
ফতোয়ার কিতাবে স্পষ্টভাবে লেখা আছে-
দলিল-
এক্ষেএে একান্ত অপারগতায় এমন করা যেতে পাওে যেমনটা ফতওয়ার কিতাবে উল্লেখ আছে-
যাকাতের উপযুক্ত এমন কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে যাকাতের মালের মালিক বানিয়ে দেয়া হবে। যে ব্যক্তি এই কাজে ব্যয় করার ইচ্ছা রাখে কিন্তু সামর্থ না থাকার দরুণ দান করতে পারে না।এমন ব্যক্তি নিজের মালিকানায় নেয়ার পর যদি নিজের আগ্রহে ইচ্ছায় এই টাকা কোনো মসজিদে,মাদ্রাসা বা প্রতিষ্ঠানে দান করে , তাহলে ইহা তার পক্ষ থেকে চাঁদা বিবেচিত হবে ।যা প্রতিষ্ঠানের সর্ব কাজে ব্যয় করা যাবে ।
তবে মনে রাখতে হবে ”হীলায়ে তামলীক ” (মালিক বানানোর বাহানা ) নামের ব্যাপাকভাবে যে খেল-তামাশা করা হয়, তাতে যাকাত আদায় করা হয় না।
শিক্ষা প্রতিষ্টানের পক্ষ হতে যাকাত সংগ্রহ:
শিক্ষা প্রতিষ্টানের সমূহের পক্ষ হতে প্রতিনিধি ও দূতগণ থাকাত সংগ্রহ কওে থাকেন।অতঃপর মাদরাসা ও ছাত্রদের জন্য তা ব্যয় করে থাকেন। এখন প্রশ্ন হলে যে মাদরাসার প্রতিনিধির আবস্থান ও র্মযাদা কোন র্পযায়ের ? যদি প্রতিনিধিরা যাকাত আদায়কারীর পক্ষ থেকে উকিল হয়ে থাকে,তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত যাকাত খাতে ব্যয় না করবে,ততক্ষণ পর্যন্ত যাকাত আদায় হবে না।যদি তাদের হাতে যাকাতের টাকা বিনষ্ট হয়ে যায়,তাহলে যাকাত দাতাদেও উপর দ্বিতীয় বার যাকাত আদায় করা ওয়াজির হয়ে যাবে।াআর যদি তাদেরকে অভাবগ্রস্ত ছাত্রদের পক্ষ থেকে নায়েব বা উকিল মানা হয়,তাহলে টাকা উসুল করার সাথে সাথেই আদায় হয়ে যাবে।কেননা উকিলের কব্জাকে মূল ব্যক্তির কব্জা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং গরীবদের হিসেবে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার অনুমতি ও অর্জণ হয়ে যায় । তার পদ্ধতি হল এই যে যখন ছাত্ররা মাদরাসায় ভর্তি হয়ে নিজের সাহায্য মঞ্জুর করিয়ে নিল, তখন যেন যে মাদরাসার কর্তৃপক্ষকে নিজের জন্য যাকাত উসূল করার উকিল বানিয়ে নিল । এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা ছাত্রদের উকিল। যাকাত আদায়কারীরা যাকাত এই বলে সোপর্দ করল যে, এগুলো গরীব এবং যাকাতের খাত সমূহে খরচ করে দিন। এই ভাবেই তারা যাকাত আদায়কারীর পক্ষ থেকে উকিল,্এই কারণে উত্তম হল যে , মাদরাসার প্রতিনিধিকে ছাত্র এবং যাকাত আদায়কারীর পক্ষ থেকে উকিল মনে করা হবে।ছাত্রদের উকিল হওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের উপর এই দায়িত্ব ও র্বতায় যে এই টাকা গুলোকে যাকাতের খাতেই ব্যয় করবে।
জনকল্যান মূলক সংগঠনের পক্ষ হতে যাকাত সংগ্রহ:
জনকল্যানমূলক সংগঠনের পক্ষ হতেও সংগঠনের প্রতিনিধি এবং দূতগণ যাকাত সংগ্রহ করে থাকেন।অতঃপর গরীব অভাবী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ণ মূলক কর্মকান্ডে যাকাতের অর্থ ব্যয় করবে। এখন সংগঠনের প্রতিনিধি ও দূতগণের অবস্থান ও মর্যাদা কেমন? তা জানতে হবে। যদি তার যাকাত আদায়কারীর পক্ষ থেকে উকিল হয়ে থাকে,তাহলে যতক্ষণ পযন্ত যাকাত খাতে ব্যয় না করবে এবং‘হীলায়ে তামলীক’ এর মাধ্যমে অন্যান্য খাতে ব্যয় না করবে,ততক্ষণ পর্যন্ত যাকাত আদায় হবে না।যদি তাদের হাতে যাকাত টাকা বিনষ্ট হয়ে যায়,তাহলে যাকাত দাতাদের উপর দ্বিতীয়বার যাকাত আদায় ওয়াজিব হয়ে যাবে।আর যদি তাদেরকে অভাবগ্রস্তদেও পক্ষ থেকে নায়েব বা উকিল মানা হয়,তাহলে টাকা উসূল করার সাথে সাথেই আদায় হয়ে যাবে।কেননা উকিলের কব্জাকে মূল কব্জা হিসেসে গণ্য করা হয় এবং অভাব গ্রস্থদেও পক্ষ থেকে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার অনুমতিও অর্জন হয়ে যায়।
উপরে উল্লেখিত নিয়মে যাকাতের যে অর্থ সংগ্রহ করা হয় তা ব্যয়ের খাত:
 গরীব শিক্ষার্থীদের যারা ইলমে দ্বীন শিক্ষা গ্রহণ করে।
 গরীব শিক্ষার্থীদের কিতবের মালিক বানিয়ে দেয়া।
 যেসব মাদ্রাসায় গুরাবা ফান্ড আছে সে সব মাদ্রাসা যাকাত প্রদান।
 চিকিৎসা কেন্দ্রে বিনামূলে গরীবদের ঔষুধ প্রদান করা হলে, সে সব কেন্দে যাকাত প্রদান।
 মসজিদ,মাদ্ররাসা, সরাইখানা, রাস্ত-ঘাট নির্মাণ ইত্যাদি খাতে অপারগতা বশত হীলায়ে তামলিক করার সুযোগ থাকলে, তাতে যাকাত প্রদান।
 গরীব,এতিম মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থাপনার জন্য যাকাত প্রদান।
 এতিম খানায় যাকাত প্রদান।
 এছাড়াও হীলায়ে তামলীকের মাধ্যমে যে কোনো জায়গায় যাকাত প্রদান করা যায়।


তথ্যসুত্রঃ

১.শামী খন্ড নং ৩,পৃ ২৯১,বাহরুর রায়েক খন্ড নং ২, পৃ ৪২৩,আলমগীরী খন্ড নং ১ পৃ১৮৮
২.আদ দুররুল মুখতার –শামী- খন্ড নং ৩, পৃ২৯৩

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close